প্রশ্ন:

হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল ?

হিন্দু মেলার অবদান কি ছিল ?

হিন্দু মেলার পূর্বের নাম কি ছিল ?

হিন্দু মেলা কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

হিন্দু মেলার সম্পাদক ?

    উত্তর :


    ভূমিকা :

    ভারতীয়দের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে হিন্দু মেলার অবদান অপরিসীম। তেমনি হিন্দু মেলা বাঙালির সামাজিক সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদ চেতনা বিকাশ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এই মেলা প্রায় ১৪ বছর ধরে চালু ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনস্মৃতিতে এই মেলা সম্পর্কে লিখেছেন "আমাদের বাড়ির সাহায্যে হিন্দু মেলা বলি একটা মেলা সৃষ্টি হইয়াছিল নবগোপাল মিত্র মহাশয় এই মেলার কর্মকর্তা রূপে নিয়োজিত ছিলেন। ভারতবর্ষকে স্বদেশ বলিয়া ভক্তির সহিত উপলব্ধি চেষ্টা সেই প্রথম হয়। মেজোদাদা সেই সময় বিখ্যাত জাতীয় সংগীত 'মিলে সব সন্তান গান রচনা করিয়েছিলেন' এই মেলায় দেশের স্তবগান গীত দেশানুরাগের কবিতা দেশীয় শিল্প ব্যায়াম প্রভৃতি প্রদর্শিত ও দেশী গুনী লোক পুরস্কৃত হইত।" তাই স্পষ্টতই ভারতীয়দের কাছে হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য একাধিক ছিল।


    নবগোপাল মিত্র
    নবগোপাল মিত্র


    হিন্দু মেলার প্রতিষ্ঠাতা:

    হিন্দু মেলার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজনারায়ণ বসুরযোগ্য শিষ্য ন্যাশনাল গোপাল নামে খ্যাত নবগোপাল মিত্র। ঠাকুর বাড়ির সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মেলার আয়োজনে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন।

    হিন্দু মেলার সম্পাদক:

    হিন্দু মেলার সম্পাদক ছিলেন গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    হিন্দু মেলার প্রতিষ্ঠা কাল:

    হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে।

    হিন্দু মেলার অপর নাম:

    চৈত্র সংক্রান্তির দিনে হিন্দু মেলা আত্মপ্রকাশ করেছিল বলে এর পূর্বে নাম ছিল চৈএ মেলা


    হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য :

    বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেমন—

    [1] হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা।
    [2] আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ে তোলা।
    [3] হস্তশিল্পের প্রতি উৎসাহ দান কর।
    [4] সাহিত্য চর্চের উৎসাহ দান করা।
    [5] বাঙালিদের হীনমন্যতা দূর করা।
    [6] শরীরচর্চায় উৎপাদন করা।
    [7] সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে হিন্দু ধর্মের অতীত গৌরবের কথা ছড়িয়ে দেওয়া।
    [8] হিন্দু যুবকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ জাগরণের জন্য তাদের বৈপ্লবিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত করা।

    তবে হিন্দু মেলা প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে জাতীয়তাবাদী ও দেশাত্মবোধ ভাবধারা গড়ে তোলার প্রতি উদ্যোগ নেয়। এজন্যই হিন্দু মেলা দেশীয় শিক্ষার প্রসারের নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে ন্যাশনাল পেপার নামে একত্রিকা প্রকাশ করে। এই পত্রিকা প্রকাশ করেছেন নবগোপাল মিত্র। এই পত্রিকায় কাজকর্ম নিয়ে লেখা হতো।

    কার্যাবলী:

    ধর্ম ও ইতিহাস বিষয়ক বক্তৃতা ছাত্রদের ব্যায়াম প্রদর্শনী মেলা গান বাজনা ফল ফুল প্রদর্শনী সূচি শিল্প মাটির জিনিসপত্রের প্রদর্শনী প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি এই মেলায় অনুষ্ঠিত হতো। মেলা প্রাঙ্গনে ফুল পাতা বিভিন্ন পতাকা সাজানো থাকতো শোভাযাত্রা করে অনেকে মেলায় আসতেন।


    হিন্দু মেলার অবদান:

    ১৮৬৭ থেকে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৪ বার এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্বল্পকালীন হলেও জাতীয়তাবাদের জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই মেলার বিশেষ অবদান ছিল। যেমন—

    [1] সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'মিলে সব ভারত সন্তান" গানের মধ্য দিয়ে এই বেলা শুরু হতো এই গান জাতীয় সংগীত এর মত দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলে।

    [2] বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ রচনা জন্য পুরস্কারে ব্যবস্থা সাহিত্য ক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্দীনের সৃষ্টি করে এই মেলা।

    [3] মেলায় হাতে তৈরি জিনিসপত্রের প্রদর্শনই হতো ফলের শিল্পী ও কারিগরি উৎসাহ পেত।

    [4] মেলার আয়োজকরা ন্যাশনাল পেপারের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের কথা প্রচার করেন।

    [5] হিন্দু মেলায় জনসমাবেশ ও বক্তৃতা জাতীয় অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।


    মূল্যায়ন:

    উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিকাশে দেশাত্মবোধ বিকাশে হিন্দুমেলার অবদান ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মঞ্জু চট্টোপাধ্যায় তার ' Petition to Agitation' গ্রন্থে বলেছেন "১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মেলা গঠনের মাধ্যমে বাংলাতেই প্রথম নব সৃষ্ট শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের আন্দোলন একটি সাংগঠনিক রূপ পেয়েছিল।"


    উপরোক্ত বিষয় থেকে ৮ মার্কের একটি মক টেস্ট: