১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড রিপন শিক্ষাবিদ স্যার উইলিয়ম হান্টারের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এই কমিশন হান্টার কমিশন নামে পরিচিত। এই কমিশন ভারতে শিক্ষাবিস্তারের জন্য কিছু সুপারিশ করে।
হান্টার কমিশন
হান্টার কমিশনের উদ্দেশ্য :
হান্টার কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য ছিল—
- চার্লস উডের শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামা কতটা কার্যকর হয়েছে তা খতিয়ে দেখা।
- পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষাবিস্তার সম্পর্কে সুপারিশ করা।
হান্টার কমিশনের সুপারিশ :
স্যার উইলিয়ম হান্টার সারা দেশে অনুসন্ধান করে প্রচুর তথ্যসংগ্রহের পর ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর সুচিন্তিত সুপারিশ পেশ করেন। হান্টার কমিশনের সুপারিশগুলি হল—
- প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব জেলাবোর্ড ও পৌরসভাগুলির হাতে অর্পণ করা ।
- সরকারি সাহায্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার (লাইব্রেরি) প্রতিষ্ঠা করা।
- মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান করা ৷
- শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণের অবসান ও পরিচালনার ভার বেসরকারি সংস্থার হাতে অর্পণ করা।
- বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির অবস্থার উন্নতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা।
- নারীশিক্ষার প্রতি উৎসাহ দান করা।
- মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো ইত্যাদি।
ফলাফল :
হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বড়োলাট লর্ড রিপন প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব পৌরসভা ও স্থানীয় বোর্ডের হাতে ছেড়ে দেন।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোগ উৎসাহিত হয়। এর ফলে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভূত উন্নতি ঘটে।
0 মন্তব্যসমূহ