বিশ শতকে ভারতের জাতীয় রাজনীতি কৃষক আন্দোলনগুলিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে এবং কৃষক শ্রেণি ব্রিটিশবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

বিশ শতকের ভারতে কৃষক আন্দোলনসমূহ

বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় কৃষক আন্দোলন :

১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত বঙ্গভঙ্গবিরোধী বা স্বদেশি আন্দোলনে কৃষক শ্রেণি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনি। কারণ— আন্দোলনে কোনো কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি ছিল না এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমান ও নমঃশূদ্র কৃষকরা বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় কৃষক আন্দোলন :

১৯২০-২২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়। এই আন্দোলনে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।

  • বাংলায় আন্দোলন :

                             বাংলার মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, জলপাইগুড়ি, দিনাজপুর, পাবনা, রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

  •  বিহারে আন্দোলন : 

                                    বিহারের ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, দ্বারভাঙ্গা, মধুবনি প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা অসহযোগ আন্দোলনের সময় খাজনা বন্ধ আন্দোলনে শামিল হয়। বিহারে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন স্বামী বিদ্যানন্দ। 

  • যুক্তপ্রদেশে আন্দোলন : 
                                       যুক্তপ্রদেশের হরদই, বারাবাঁকি, রায়বেরিলি, প্রতাপগড় প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা আন্দোলনে শামিল হয়। একা আন্দোলনে কৃষকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

আইন অমান্য আন্দোলনের সময় কৃষক আন্দোলন :

                                                                                   ১৯৩০-৩৪ খ্রিস্টাব্দে পরিচালিত আইন অমান্য আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে কৃষক শ্রেণি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। 

  • বাংলায় আন্দোলন : 

                                   বাংলার মেদিনীপুরের কাঁথি, মহিষাদল প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষকরা আন্দোলনে শামিল হয়। 

  •  যুক্তপ্রদেশে আন্দোলন : 

                                            যুক্তপ্রদেশের রায়বেরিলি, আগ্রা, লখনউ, বারাবাঁকি, প্রতাপগড় প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক । 

  •  বিহারে আন্দোলন : 

                                     আইন অমান্য আন্দোলনের সময় বিহারের কৃষকরা জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের দাবি করে। স্বামী সহজানন্দের নেতৃত্বে কিষানসভা গঠিত হয়।


ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কৃষক আন্দোলন :

                                                                            ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। 

  •  বাংলায় আন্দোলন : 

                                      ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুর, দিনাজপুর, বালুরঘাট প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা খাজনা বন্ধ আন্দোলনে শামিল হয় । 

  • বিহারে আন্দোলন : 

                                      বিহারের ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, পূর্ণিয়া, : সাঁওতাল পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। এখানের ৮০ শতাংশ থানা আন্দোলনকারীদের দখলে চলে আসে। 

  • গুজরাটে আন্দোলন : 

                                    গুজরাটের সুরাট, খান্দেশ, ব্রোচ প্রভৃতি অঞ্চলের কৃষকরা রেল অবরোধ ও সরকারি দফতর আক্রমণ করে। 

  •  উড়িষ্যায় আন্দোলন : 

                            উড়িষ্যার তালচের অঞ্চলের কৃষকরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।


উপসংহার :

বিশ শতকের ভারতে কৃষকরা জাতীয় আন্দোলনগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছিল। জাতীয় নেতৃবৃন্দের অনেকে কৃষকদের দাবিদাওয়াকে সমর্থন করলেও অনেকেই আবার জমিদারবিরোধী কর্মসূচি গ্রহণে অনীহা দেখায়। ফলে সবক্ষেত্রে কৃষক আন্দোলন সমান গতিতে এগোতে পারেনি।